ষড়যন্ত্রের অংশ ॥ হিউম্যান রাইটস ওয়াচরিপোর্ট

Published 07/07/2012 by idealcollect
সরকার বলছে, সংস্থাটির অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত ॥ প্রত্যাহারের আহ্বান ০ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ, কাম্য নয় ॥ আইনমন্ত্রী ০ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবাধিকারের নামে এইচআরডব্লিউ এমন এখতিয়ারবহির্ভূত বক্তব্য দিতে পারে না
 নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) প্রকাশিত ‘ভয় আমাকে ছাড়ে না’ শীর্ষক প্রতিবেদন নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- সংস্থাটির অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) মনে করে প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। আইনমন্ত্রী বলেছেন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ, যা ঠিক নয়। এ ছাড়া দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনের বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমেও বিষয়টি বিভিন্নভাবে স্থান পেয়েছে। সর্বোপরি মানবাধিকার বিষয়ক এই সংস্থাটির প্রতিবেদন প্রকাশের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, সংস্থাটি ওয়াচডগের ভূমিকা পালন করবে। তারা কোন গণতান্ত্রিক দেশকে এভাবে বলতে পারে না।
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে এভাবে প্রশ্ন তোলা সঠিক কিনা সে প্রশ্নও অনেকের। তাছাড়া বিডিআর বিদ্রোহের বিচারের পক্ষে দেশের সকল মানুষ। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে গঠন করা হয়েছে র‌্যাব। এক্ষেত্রে বিচারবহির্ভূত যে কোন হত্যাকা- সাংবিধানিকভাবেই স্বীকৃত নয়। এই অবস্থায় বিডিআর বিদ্রোহের বিচার ও র‌্যাবের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা কতটুকু যৌক্তিক সে প্রশ্ন রয়েই যায়। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজেদের ইচ্ছামতো তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে একটি দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হলে সরকার সংস্থাটির বিপক্ষে আইনের আশ্রয় নিতে পারে। পাশাপাশি সরকারী অনুমতি ছাড়া একটি বিদেশী সংস্থা দেশের অভ্যন্তরে কিভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করল তাও খতিয়ে দেখার পরামর্শ তাদের।
(২ পৃষ্ঠা ৪ কঃ দেখুন) ষড়যন্ত্রের অংশ
(প্রথম পৃষ্ঠার পর)
সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দেয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন কেউ কেউ। যদি প্রতিবেদন ভুল প্রমাণিত হয় তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সংস্থাটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করারও দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
বুধবার ঢাকায় ‘ভয় আমাকে ছাড়ে না’: ২০০৯’-এর বিডিআর বিদ্রোহের পর হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতন ও পক্ষপাতদুষ্ট বিচার’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে এইচআরডব্লিউ। প্রতিবেদনে আরও দেখানো হয়েছে, সন্দেহভাজন আটককৃতদের নির্যাতনে বাংলাদেশ পুলিশের র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নÑ র‌্যাব জড়িত।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিডিআর বিদ্রোহে অভিযুক্তদের ‘গণবিচার’ প্রক্রিয়ায় ‘গলদ’ রয়েছে দাবি করে তা এখনই স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ব্যাপক বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ থাকায় ‘এলিট বাহিনী’ র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ভেঙ্গে দিয়ে একটি নতুন ‘বেসামরিক’ বাহিনী গড়ে তোলার সুপারিশ করে সংস্থাটি।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরই ‘অভিযুক্ত’ সংশ্লিষ্ট বাহিনী থেকে শুরু করে সরকারের পক্ষ থেকে জবাব দেয়া শুরু হয়। এদিকে বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে প্রকাশিত তথ্য সঠিক নয় তা প্রমাণ করতে সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে সংস্থাটি। সংস্থাপ্রধান বলেছেন, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তা এ্যাডামস বলেছেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহে সন্দেহভাজনদের যে র‌্যাবের হেফাজতে প্রচ- নির্যাতন করা হয়েছে সে বিষয়ে অনেক নির্যাতিত ব্যক্তির আলাদা আলাদা তথ্য-প্রমাণভিত্তিক দৃষ্টান্ত দেয়া আছে আমাদের গবেষণা প্রতিবেদনে। পারলে এর যে কোন একটা খ-ন বা প্রমাণ করে দেখানো হোকÑ দাবি সংস্থাটির।’
অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত- সরকারের বক্তব্য ॥ বিডিআর বিদ্রোহের বিচার ও র‌্যাব নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) প্রতিবেদন এবং সংবাদ সম্মেলনে তাদের উত্থাপিত অভিযোগ ‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের’ অংশ বলে মনে করে সরকার বক্তব্যটি যথাযথ নয় বলে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ‘প্রতিবাদলিপিতে’ বলা হয়, গত বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত।’ এ কারণে প্রতিবেদনটি এবং সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত এইচআরডব্লিউর বক্তব্য প্রত্যাহার করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘সরকার মনে করে, এ ধরনের অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের অংশ। সরকার আশা করে যে, ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ তাদের প্রতিবেদন ও বক্তব্য প্রত্যাহার করবে, যাতে জঘন্য ও মর্মান্তিক বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনাকর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের হত্যাকা-ের সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করা যায়।’ ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর বিদ্রোহের পরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারের জন্য আটক অন্তত ৪৭ জন বিডিআর সদস্য হাজতে থাকা অবস্থায় ‘নিহত’ হয়েছেন। তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর প্রমাণ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হাতে রয়েছে।
ওই সময় আটক প্রায় ৬ হাজার বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদস্য ন্যায়বিচার পাবেন কিনাÑ তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড এ্যাডামস বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে মন্ত্রী শফিক আহমেদও তাঁদের প্রতিবেদনকে ‘অসত্য, অগ্রহণযোগ্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘প্রতিবাদলিপিতে’ বলা হয়, ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে বিডিআর বিদ্রোহ পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচার কার্যক্রমের সমালোচনা করে মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্যাতনসহ বিচারিক কার্যক্রমের বিষয়ে অসত্য ও অমূলক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
‘গত ৩ জুলাই ব্র্যাড এ্যাডামস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করলে মন্ত্রী তাঁকে বিডিআর বিদ্রোহের বিচার কার্যক্রম পরিচালনা পদ্ধতির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেন। মন্ত্রী জানান, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং সকল ক্ষেত্রে তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, আইনজীবী নিয়োগসহ সকল ধরনের আইনানুগ সুবিধা পাচ্ছেন। কোন ধরনের নির্যাতনমূলক কার্যক্রম বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে না।’ বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় কারাবন্দী জওয়ানদের ওপর র‌্যাবের নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, র‌্যাব বিডিআর বিদ্রোহ মামলার অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনাসহ কোন পর্যায়েই সম্পৃক্ত নয়। সুতরাং র‌্যাবের পক্ষে অভিযুক্তদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোন সুযোগ নেই।
সুপারিশ ঠিক হয়নি-সাহারা ॥ র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ভেঙ্গে দিয়ে একটি নতুন ‘বেসামরিক’ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) সুপারিশ করা ঠিক হয়নি বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আর্মড পুলিশের ১১ ইউনিটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শুধু সরকার নয়, সারাদেশের জনগণ র‌্যাবের জঙ্গী দমনে ও সন্ত্রাস দমন কার্যকলাপকে ধন্যবাদ ও বাহবা দিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এ রকম হস্তক্ষেপ করা সমীচীন হয়নি। ওই দিনই এক সংবাদ সম্মেলনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন ভিত্তিহীন এবং মনগড়া বলে দাবি করে র‌্যাব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সামসুল হক টুকু বলেন, দেশ যখন ঠিকমতো এগিয়ে যাচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যখন সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন কেন এ অপপ্রচার তা বুঝতে হবে।
বিডিআর বিদ্রোহের বিচার নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মন্তব্য বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত- বিজিবি ॥ নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশও (বিজিবি) বলেছে, বিদ্রোহের ঘটনায় অভিযুক্তদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অবিবেচনাপ্রসূত, অযৌক্তিক ও উস্কানিমূলক। বিডিআর বিদ্রোহের বিচার স্থগিত করার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন এবং উস্কানিমূলকভাবে চলমান বিচার কার্যক্রম বন্ধের আহ্বানে বিজিবি সদর দফতর বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন। শুক্রবার বিজিবি সদর দফতর থেকে মহাপরিচালকের পক্ষে জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ মোহসিন রেজা স্বাক্ষরিত পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, গত বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ‘অতিরঞ্জিত তথ্য’ উপস্থাপন করা হয়েছে।
২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সন্দেহভাজন ও অভিযুক্তদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং র‌্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ বলেছে, বিচারের জন্য আটক অন্তত ৪৭ জন বিডিআর সদস্য হাজতে থাকা অবস্থায় ‘নিহত’ হয়েছেন। তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর প্রমাণ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হাতে রয়েছে।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব তথ্য ‘ভিত্তিহীন’ এবং সামগ্রিকভাবে ‘বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে হেফাজতে থাকাকালীন কয়েক আসামির মৃত্যু হওয়া সম্পর্কে অতিরঞ্জিত তথ্য প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে তারা স্বাস্থ্যগত অসুস্থতা, বার্ধক্যজনিত ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছেন।’
মানবাধিকার সংস্থার এ প্রতিবেদনকে ‘উস্কানিমূলক’ আখ্যায়িত করে প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, দেশের প্রচলিত আইন সম্পর্কে জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, বিজিবি সদস্যদের নৈতিক মনোবলে আঘাত করা, আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা প্রদান, সর্বোপরি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে বিদ্রোহ ও জঘন্যতম হত্যাকা-ের বিচার স্থগিত করতেই এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলে মনে করে বিজিবি।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, বিডিআর বিদ্রোহের পর বিভিন্ন স্থাপনায় ‘বাংলাদেশ রাইফেলস ওর্ডার’ ১৯৭২ অনুযায়ী ১১টি বিশেষ আদালত গঠন করা হয়। আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রাইফেলস অর্ডার ১৯৭২ এবং বাংলাদেশ রাইফেলস রুলস ১৯৭১ যথাযথ অনুসরণ করা হয়। আদালত চলাকালীন সময়ে সাংবাদিকসহ যে কোন ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে বিচারকার্য দেখতে পারেন। সুতরাং বিডিআর আইনে বিচার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা সম্পর্কে সকলেই অবহিত। এ পর্যন্ত ঢাকার বাইরে স্থাপিত ৬টি আদালতে ৪৫টি মামলা এবং ঢাকার পিলখানায় ৫টি আদালতে ৭টি মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে পিলখানার তিনটি আদালতে চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্রোহ মামলায় প্রায় ৭০ ভাগ বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বিচারে রায়ে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। অনেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন।
অপরদিকে সুপ্রীমকোর্টের আদেশ অনুযায়ী হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুট এবং গুরুতর অন্যান্য অপরাধের বিচার মহানগর দায়রা জজ আদালতে দেশের প্রচলিত আইন ‘বাংলাদেশ দ-বিধি’ এবং ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ অনুযায়ী যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই মামলায় বাদী পক্ষে সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে বলেও বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কারও হস্তক্ষেপ কাম্য নয়- আইনমন্ত্রী ॥ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কারও হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। তাছাড়া এমন হস্তক্ষেপের কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেও মনে করেন তিনি।
সংস্থাটির এশিয়া মহাদেশের পরিচালক ব্র্যাড এ্যাডামসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, তারা যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ না করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
News From- Janakontha
Advertisements

‘আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির দিকে তাকিয়ে আছি’

Published 07/07/2012 by idealcollect

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে: দুই বছর আগে ভারত সরকার বাংলাদেশকে যে একশ’ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার বেশির ভাগ ব্যবহারে ভারতের সঙ্গে ইতিমধ্যেই চুক্তি হয়ে গেছে। ২শ’ মিলিয়ন ডলার ব্যবহার নিয়ে এখনও কিছু ঠিক করা হয়নি। শুক্রবার কলকাতায় এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০১০ সালে ভারত বাংলাদেশকে একশ’ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। পরে এ বছরের মে মাসে ভারতের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় ঢাকা সফরে এসে বাংলাদেশের মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে জানান, একশ’ কোটি ডলারের মধ্যে ২শ’ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশকে অনুদান হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। এ অর্থ পরিশোধ যেমন করতে হবে না, তেমনি কোন সুদও দিতে হবে না। এই অর্থ বাংলাদেশ নিজের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ব্যয় করতে পারবে। বাকি ৮০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষেত্রে সুদ ১.৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে এক শতাংশ করার কথাও প্রণব বাবু ঘোষণা করেন। কিন্তু সেই ৮০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ ব্যবহারে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে অর্থমন্ত্রী মুহিত এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এই ধরনের ঋণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক নিয়ম মানতে হয়। আর সেসব মেনে চলতে গিয়ে অনেকটাই সময় লাগে। যেমন রেলের ইঞ্জিন বানানোর জন্য তিন চার বছর লেগে যাওয়া অস্বাভাবিক নয় বলে তিনি জানান। ভারতীয় ঋণের একটি অংশ দিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারত থেকে ইঞ্জিন কেনা হবে বলে জানা গেছে। তিস্তার পানি নিয়ে বাংলাদেশে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখনও কি বাংলাদেশ তিস্তার পানি পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী, এই প্রশ্নের উত্তরে মুহিত বলেন, আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির দিকে তাকিয়ে রয়েছি। তবে তিস্তার পানি নিয়ে চুক্তি হবেই বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান।  তিন দিনের ভারত সফরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার দেখা করার কোন কর্মসূচি ছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোন বিষয় আমার সফরসূচিতে নেই। তিন দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী মুহিত গত বুধবার কলকাতা এসেছেন। তার সঙ্গে এসেছেন তার পুত্র ও পুত্রবধূ এবং ১৫ সদস্যের এক সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল। কলকাতা থাকাকালীন তিন দিনই তিনি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের ৯০ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত তিনটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনটি অনুষ্ঠানের দু’টি কলকাতায় অনুষ্ঠিত হলেও তৃতীয়টি অনুষ্ঠিত হয়েছে কবির জন্মস্থান বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরে। মুহিত জানান, গত সাড়ে তিন-চার বছর এ ধরনের কোন সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সময় পাননি তিনি। এই প্রথম তিনি এই ধরনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছেন। একই সঙ্গে অবসর কাটানোও যে তার এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল সেকথাও তিনি জানিয়েছেন। তবে এ সফরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক মিত্রের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছিলেন।  আজ (শনিবার) সকালেই তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন। 

News From- Manob Zamin

দুই নেত্রীকে আলোচনায় বসতে ব্যারিস্টার রফিক উল হকের আহ্বান

Published 07/07/2012 by idealcollect

প্রবীণ আইনবিদ ব্যারিস্টার রফিক-উল হক দেশের স্বার্থে দুই নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে আপনারা দুইজন মিলেমিশে কাজ করুন। রাষ্ট্র কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে দু’জনে আলোচনায় বসুন। দেশে আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য কাজ করুন। তা হলে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র আসবে। এ জন্য একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি থাকতে হবে। আপনারা একে অপরকে টিটকেরি করবেন তা আমরা আশা করি না। এখানে ব্যক্তির চেয়ে পার্টি এবং পার্টির চেয়ে গণতন্ত্র বড়।
সুপ্রিম কোর্টে এই বিশিষ্ট আইনজ্ঞ আরো বলেন, আমাকে দেখে সবাই দুই নেত্রীকে একত্র করার কথা বলেন। বলা হয় রফিক-উল হক ইচ্ছে করলে দুই নেত্রীকে একত্রে বসাতে পারেন। আমার কথা হলো, দুই নেত্রীই দেশকে ভালবাসেন। দু’জনকেই আমি ভালোভাবে চিনি। একজন বঙ্গবন্ধু কন্যা তার কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু আশা করি এবং অপরজন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রীÑ দু’জনই দেশকে ভালোবাসেন। তাদের মিলিয়ে দেয়া মানে তাদের রাজনৈতিক দর্শন পরিবর্তন হবে না। তারা আলোচনা করবেন, নিজ রাজনৈতিক স্বার্থ থাকবে, তবে আলোচনা করে তারা জাতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। একে অপরের সাথে কথা বলবেন, ফোন করবেন। জাতীয় বিষয়ে কথা বলবেন। আমরা চেষ্টা করলে দুই নেত্রীকে একত্র করা যাবে। আপনাদের পার্টি ঠিক থাকুক, আপনারা দেশের স্বার্থে কাজ করুনÑ এটাই আমরা চাই।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক কালচার সৃষ্টি করতে পারলে সত্যিকার অর্থে আমাদের জয় হবে। গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত মেনে নেয়া। আগামী নির্বাচনে বেগম জিয়া যদি জয়ী হন আমি আশা করব শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে গিয়ে তাকে সংবর্ধনা জানাবেন। অনুরূপভাবে শেখ হাসিনা জয়ী হলেও তাকে বেগম জিয়া অভিনন্দন জনাবেন। এটা আমরা চাই। এটা যদি প্রতিষ্ঠিত হয়, বাংলাদেশের মানুষ অনেক বেশি সুখে থাকবে।
গতকাল সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে সার্ক কালচারাল সোসাইটি আয়োজিত চতুর্থ জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসব উদ্বোধন করে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক এ কথা বলেন। সংগঠনের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। বক্তব্য রাখেন দৈনিক ভোরের ডাকের সম্পাদক কে এম বেলায়েত হোসেন, কৃষক পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুর রহমান টেপা প্রমুখ।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, দুঃখের বিষয় আমরা সবাই সার্কের মেম্বার। সার্ক সার্ক বলছি, অথচ ভিসা ছাড়া আমরা এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে পারছি না। ১৫ দিন বা এক মাসের জন্য অবাধে যাতায়াতের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আজকের তরুণ প্রজন্ম জানেই না সার্ক এসেছে বাংলাদেশ থেকে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাথা থেকেই এই চিন্তা এসেছে।
শাজাহান খান বলেন, ইউরোপের ২৬ দেশে এক ভিসায় প্রবেশ করা যায়। সার্ক দেশগুলোতে এটি কেন হচ্ছে নাÑ এটা করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনো সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সম্পর্কের সমন্বয় হয়নি। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়কের সময় দুই নেত্রীকে মাইনাস করার কথা বলা হয়েছিল। আল্লাহ ছাড়া কেউ কাউকে মাইনাস করতে পারে না। তিনি বলেন, এরশাদকে আমরা প্রধান দুই দল মাইনাস করতে চেয়েছিলাম। তাকে স্বৈরাচার বলছি, আর এখন সরকার তাকে নিয়ে জোট করেছে। মন্ত্রী আরো বলেন, এখন অনেকে বলে তৃতীয় শক্তি ক্ষমতা দখল করবে। এটা হলে ওয়ান-ইলেভেনের সময় মঈন ইউ আহমেদ ক্ষমতা দখল করতে পারতেন। বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন, এখন তৃতীয় শক্তির ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়।

News From- Naya Diganta

উচ্চ আদালতের রায় মানছে না সরকার

Published 07/07/2012 by idealcollect

ওয়াকিল আহমেদ হিরন/আবু সালেহ রনি
উচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে উপেক্ষিত থাকছে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট রায়। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও রায় বাস্তবায়নে এক শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তার গাফিলতি ঘটছে অহরহ। এ সুযোগে কিছুসংখ্যক ভূমিদস্যু, পরিবেশ বিপন্নকারীসহ স্বার্থান্ধ কিছু লোক হয়ে উঠছে বেপরোয়া। থামছে না পাহাড় কাটা, সমুদ্রসৈকত, নদী ও ফুটপাত দখল, খাদ্যে ভেজালের মতো অপরাধ। আইন প্রয়োগ করাই যাদের কাজ, তারাও যেন নির্বিকার। রাষ্ট্রের নানা সীমাবদ্ধতার দোহাই দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জনস্বার্থ বিষয়ক এসব রায় উপেক্ষা করছেন। সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের রায় বা আদেশ কার্যকর করার দায়িত্ব সরকারের। এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভুক্ত সকল নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা করবে।’ সরকারি কর্মকর্তাদের গাফিলতি সীমাহীন অবস্থায় পেঁৗছার কারণে তারা উচ্চ আদালতের রুলের জবাবও সময়মতো দিচ্ছেন না। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের রায় বা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ
বাস্তবায়ন সরকারের সংশ্লিষ্টদের জন্য সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকারকেই রায় বাস্তবায়নে সঠিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সমকালকে বলেন, উচ্চ আদালতের রায় অবশ্যই বাস্তবায়ন করা উচিত। রায় অমান্য করা আদালত অবমাননার শামিল। যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ রায় বাস্তবায়ন করছে না, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটও বিবেচনা করতে হবে। যে রায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেটা অবশ্যই দ্রুততম সময়ে করতে হবে। যেসব রায় বাস্তবায়নে সময়ের প্রয়োজন, সেটাও আদালতকে অবহিত করতে হবে।
আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিক-উল হক সমকালকে বলেন, আদালতের রায় বা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাস্তবায়ন করা সরকারের সংশ্লিষ্টদের জন্য সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। এটা অস্বীকার করা হলে আইনের শাসন বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান সমকালকে বলেন, দেশের প্রশাসনিক কাঠামোগুলো জনগণের কাঙ্ক্ষিত মান অনুসারে সঠিক পুনর্বিন্যাস হয়নি। এর ফলে উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা আদালতের আদেশও অগ্রাহ্য করছেন। তার মতে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট রায় বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন জরুরি। এ জন্য একটি পর্যবেক্ষণ সেলও করা যেতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার একেএম শামসুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আদালতের নির্দেশ বা রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না, তা ফলোআপ করতে হাইকোর্টের নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা নেই। রিটকারী বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নির্দেশ মানা হচ্ছে না বলে আদালতকে অবহিত করলে আদালত সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। এ জন্য বিবাদীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হবে।
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) সভাপতি এবং একাধিক জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলার রিটকারী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সমকালকে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে আদালতের রায় বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এ ছাড়া রাজনৈতিক চাপ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও রয়েছে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলা থেকে জনগণ উপকৃত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলেও সেগুলোকে বিভিন্ন কৌশলে স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী চার নদী (বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা) সংলগ্ন অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর ও সব যান্ত্রিক পরিবহনে গতিনিয়ন্ত্রক যন্ত্র স্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে সরকার থেকে বারবার সময় নেওয়ায় রায় বাস্তবায়নে সংশয় দেখা দিয়েছে। এদিকে দেশের প্রতিটি জেলায় ফুড কোর্ট (খাদ্য আদালত) গঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্যাতন, ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য উদ্ধারকারী সরঞ্জাম সংগ্রহ, যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চে দেওয়া ভাষণের স্থান ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ স্থান সংরক্ষণ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ির আশপাশ এবং মহাস্থানগড়, লালবাগ কেল্লা সংরক্ষণসহ বিভিন্ন রায় বাস্তবায়নে চলছে ধীরগতি।
চার নদী :২০০৯ সালের ২৫ জুন হাইকোর্ট চারটি নদী রক্ষায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে ঐতিহাসিক রায় দেন। রায়ে নদীতীরবর্তী স্থায়ী ও অস্থায়ী সব স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নদীর সঠিক গতিপথ নির্ণয় করতে সিএস রেকর্ড অনুসারে নদীগুলোর সীমানা নির্ধারণে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১০ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এ রায় বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল। বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ওই রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে। অথচ সেই রায় আজও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
ট্যানারি শিল্প : ২০০৯ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সাভারে সরিয়ে নিতে ট্যানারি মালিক ও সরকারপক্ষকে সময় বেঁধে দেন। রায়ে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজধানীর হাজারীবাগের সব চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠান সাভার এলাকার নির্ধারিত জায়গায় স্থানান্তর করতে বলা হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রায় বাস্তবায়িত না হলে ট্যানারি শিল্প কারখানাগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। এর পরও সরকারের পক্ষ থেকে আবার সময় প্রার্থনা করা হলে বর্তমানে ট্যানারি শিল্পগুলো সেখানেই তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
খাদ্য আদালত : ২০০৯ সালের ১ জুন হাইকোর্টের এক রায়ে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে এক বছরের মধ্যে প্রতিটি জেলায় ‘খাদ্য আদালত’ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিটি জেলায় প্রয়োজনীয় একজন করে ‘খাদ্য বিশ্লেষক’ ও ‘খাদ্য পরিদর্শক’ নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপগুলো হলফনামা আকারে ২০১০ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। হাইকোর্টের সেই আদেশ আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি।
পাইরেসি : ২০১০ সালের ১৭ আগস্ট হাইকোর্ট এক রায়ে সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, পরিচালক, প্রযোজক ও চলচ্চিত্রের কলাকুশলীদের শিল্পকর্মের অডিও ও ভিডিও পাইরেসি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেন। রায় বাস্তবায়ন বিষয়ে আদালত তিন মাস পরপর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ নির্ধারিত সময়ের দু’বছর পার হলেও একটি প্রতিবেদনও আদালতে জমা দেওয়া হয়নি। উচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষিত রয়েছে বলে জানান রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট এক রায়ে বাজারে নোট ও গাইড বই বিক্রি অবৈধ ঘোষণা করেন। আজও ওই রায় বাস্তবায়িত হয়নি।

News From- Samokal

সরকারকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, পারলে নির্যাতনের যেকোনো একটি অভিযোগ খন্ডন করুন

Published 07/07/2012 by idealcollect

বার্তা২৪ : বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় ‘পক্ষপাত’ ও সন্দেহভাজনদের ওপর ‘প্রচন্ড নির্যাতন’-এর উল্লেখ করে বুধবার প্রকাশিত নিজেদের গবেষণা প্রতিবেদনের যে কোনো একটি অভিযোগকে খন্ডন করতে সরকার ও র‌্যাবের (র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) প্রতি আহবান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

বার্তা২৪’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির ঢাকা সফররত কর্মকর্তা ব্রাড অ্যাডামস বুধবার রাতে বললেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহে সন্দেহভাজনদের যে র‌্যাবের হেফাজতে প্রচন্ড নির্যাতন হয়েছে সে বিষয়ে অনেক নির্যাতিত ব্যক্তির আলাদা আলাদা তথ্য-প্রমাণভিত্তিক দৃষ্টান্ত দেয়া আছে আমাদের গবেষণা প্রতিবেদনে। আমরা তাদের প্রতি আহবান জানাবো, পারলে এর যেকোনো একটা খন্ডন বা অপ্রমাণ করে দেখান।

এর আগে বুধবার সকালে ঢাকায় ‘ভয় আমাকে ছাড়ে না’: ২০০৯’র বিডিআর বিদ্রোহের পর হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতন ও পক্ষপাতদুষ্ট বিচার’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে এইচআরডব্লিউ প্রকাশ করলে বিকেলে নিজেদের সদর দফতরে এক ব্রিফিংয়ে র‌্যাব মুখপাত্র কমান্ডার এম সোহায়েল একে ‘মনগড়া’ ও ‘সম্পূর্ণ অসত্য’, ‘বানোয়াট’ আখ্যা করেন। র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, ‘দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এবং অপরাধী ও জঙ্গিবাদ উৎসাহিত করতে দেশের কিছু মানবাধিকার সংগঠনের সহায়তায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ ধরনের উদ্দেশ্যমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।’ তিনি বলেন, এসব মামলায় আটকরা কখনোই র‌্যাবের হেফাজতে ছিল না।

সাক্ষাৎকারে এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বললেন, ‘গতানুগতিক ঢালাওভাবে এ প্রতিবেদন অস্বীকার করলে তো হবে না, প্রতিবেদনের সাক্ষ্য-প্রমাণ খন্ডন করে কর্তৃপক্ষকেই নিজেদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা নির্যাতনে জড়িত নয়।’

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘সন্দেহভাজন আটককৃতদের যে র‌্যাব হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছিল সেরকম অনেকের ও তাদের পরিবারের সদস্য-স্বজনদের কথা তো বিস্তারিত দেয়া আছে গবেষণা প্রতিবেদনে।

আপনারা সাংবাদিকরা র‌্যাবকে ওসব পৃথক ও সুর্নিদিষ্ট কেস-স্টাডির ব্যাপারে প্রশ্ন করেননি?’

ব্রাড অ্যাডামস বলেন, ‘এত বড় একটা হত্যাকান্ড ও বিদ্রোহ, এতে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার দিতে হলে বিচার প্রক্রিয়া পক্ষপাতমুক্ত করতে হবে। আমরা প্রতিবেদনে দেখিয়েছি যে, যেভাবে গণহারে বিচার করা হচ্ছে তা ন্যায় ও নিরপেক্ষ বিচারের মানদন্ডে পড়ে না। এতে কোনো পক্ষকেই ন্যায়বিচার দেয়া যাবে না, বিদ্রোহ ও হত্যার প্রকৃত কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাস আমাকে বলেছে, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে র‌্যাব কখনোই কার্যকর সংস্থা ছিল না।’

তিনি জানান, ‘আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ আমাদের বলেছেন তারা র‌্যাবকে কোনো ধরনের কারিগরি, কৌশলগত বা প্রশিক্ষণমূলক সহায়তা দিচ্ছেন না। বরং র‌্যাব যাতে নিজেদের সদস্য কর্তৃক নির্যাতন ও আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করতে পারে সেজন্য একটি অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার শাখা খুলতে তারা সাহায্য করছে। তাছাড়া বৃটিশ কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের দীর্ঘ ও অবিরাম রেকর্ডের কারণে তারা আর এই বাহিনীটিকে প্রশিক্ষণ সহায়তা দিচ্ছে না।’

তার মতে, ‘পুলিশের মধ্যে হলেও কার্যত সামরিক বা অন্তত আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত র‌্যাব শুরু থেকেই বাংলাদেশীদের হত্যা করে আসছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি এখন এই বাহিনীতে একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কাজেই প্রতিষ্ঠান হিসেবে একে সংস্কার করার আর কোনো উপায় নেই। একে বিলুপ্ত করতে হবে।’

বিদ্রোহ ও হত্যার বিচার এবং সন্দেহভাজন বিডিআর সদস্যদের ওপর নির্যাতন তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বদলে পৃথক তদন্ত সংস্থা গঠনের সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এ ধরনের সামর্থ্য ও সক্ষমতা নেই যে তারা এত বড় একটা সহিংস  বিদ্রোহ ও হত্যার এবং এত ব্যাপক নির্যাতনের তদন্তের কাজ করতে পারে।’

মানবাধিকার সংস্থাটির নিজস্ব গবেষক দলের করা ৫৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে বিদ্রোহের একটি বিস্তারিত বর্ণনাসহ সন্দেহভাজন বিদ্রোহীদের ওপর সরকারি বাহিনীর নির্যাতনের ঘটনাগুলো প্রামাণ্য আকারে তুলে ধরা হয়েছে। নির্যাতিত ও নিহতদের পরিবার সদস্য, দুই পক্ষের আইনজীবী ও সাংবাদিকসহ মোট ৬৫ জনের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। নির্যাতিতদের ‘হাতের ও পায়ের পাতায় মারা’, ‘বৈদ্যুতিক শক দেয়া’ ও ‘সিলিং থেকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা’সহ নানা ধরনের নির্যাতনের বর্ণনা দেয়া হয়েছে এতে। যাতে কমপক্ষে ৪৭ জন মারা গেছেন।

বিশেষ ‘সামরিক ট্রাইব্যুনাল’-এ এই বিদ্রোহ ও হত্যার বিচারকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট গণবিচার’ হিসেবে দেখিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কুখ্যাত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এই নির্যাতনগুলোর অনেকগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।’ অবিলম্বে এই বিচার প্রক্রিয়া স্থগিত ও পক্ষপাতমুক্ত বিচার করার দাবি করেছে এইচআরডব্লিউ।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৩ জন নিহত হন। বাহিনীটির সারা দেশে স্থাপিত বিশেষ আদালতগুলো ওই বিদ্রোহ ও হত্যার পৃথক পৃথক মামলায় কয়েক হাজার বিডিআর সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।

 

News From- Sangram

আওয়ামী লীগের পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে?

Published 07/07/2012 by idealcollect

পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিল নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় হচ্ছে। ঋণচুক্তি বাতিল হওয়ার পর জনদরদি মহাজোট সরকার বিশ্বব্যাংক যে কত বড় দুর্নীতিবাজ, তা প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। পৃথিবীর কোন দেশের নামকরা অর্থনীতিবিদ বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতি সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছেন, কোন পত্রিকা কী প্রতিবেদন করেছে, তার ফিরিস্তি দিচ্ছেন মন্ত্রীরা। বিশ্বব্যাংক যদি এত খারাপ প্রতিষ্ঠানই হয়ে থাকে, তাহলে ঋণচুক্তি করার আগে কেন দেশবাসীকে সে সম্পর্কে কিছু জানানো হলো না? কেন জনগণকে জিজ্ঞাসা করা হলো না, এই বদনামি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আমাদের চুক্তি করা ঠিক হবে কি না? ঋণচুক্তি বাতিলের পর জাতীয় সংসদের উপনেতা সাজেদা চৌধুরী তো বলেই ফেলেছেন, ‘এক বেলা বাজার না করে সেই পয়সা দিয়ে পদ্মা সেতু করবেন।’ কিন্তু বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপনের আগে কেন এ আহ্বান জানালেন না তিনি? তখন যদি এক বেলা বাজার না করে (মাননীয়ার কাছে জানতে চাই, বাংলাদেশের কতজন মানুষ দিনে দুই বেলা বাজার করে?) নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার কথা বলতেন, মানুষ বিশ্বাস করত। এখন বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে স্বদেশপ্রেমের মশাল জ্বালালে তাতে ঘর আলোকিত হওয়ার চেয়ে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি।
এ গেল মুদ্রার এক পিঠ। অপর পিঠে যাঁরা আছেন, তাঁদের ধারণা, পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ বাতিল হওয়ায় দেশের মহাসর্বনাশ হয়ে গেছে। দেশের ভাবমূর্তি একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। কথাটি ঠিক নয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্বব্যাংককে মানুষ একটি বেনিয়া প্রতিষ্ঠানের বাইরে কিছু দেখে না। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের চিঠি গোটা দেশের জন্য অপমানকর। বিশ্বব্যাংকের চিঠি যদি অপমানকর হয়ে থাকে, চুক্তি সই করেও যাঁরা টাকা আনতে পারেননি, তাঁদের জন্য অপমানকর। সারা দেশের মানুষের জন্য নয়। এ অপমান তাঁদেরই প্রাপ্য, যাঁরা দুষ্কর্ম করেছেন বা করতে চেয়েছিলেন এবং যাঁরা তাঁদের রক্ষা করতে চাইছেন।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেত্রী জাতীয় সংসদে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে যা বলেছেন, তা স্ববিরোধিতাপূর্ণ। একদিকে তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যাংক যেহেতু এক পয়সাও দেয়নি, সেহেতু দুর্নীতির প্রশ্নই আসে না। বিশ্বব্যাংক কখনোই বলেনি যে ঘুষের লেনদেন হয়েছে। তারা বলেছে, কানাডীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির কাছে ঘুষ চাওয়া হয়েছে। আর ঘুষ যদি না-ই চাওয়া হবে, তাহলে তিনি সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ও সচিবকে কেন সরালেন? প্রকল্প পরিচালককে কেন সরালেন? প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, যদি প্রমাণিত হয় মন্ত্রী দায়ী, তাঁকে অপসারণ করা হবে। তদন্তের পরই প্রমাণ পাওয়া যাবে মন্ত্রী দুর্নীতি করেছেন বা করার চেষ্টা করেছেন কি না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সমর্থন করি। এখনো বিষয়টি তদন্তাধীন। অতএব, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভার বাইরে রাখুন। যদি তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আবার পুনর্বহাল হবেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মন্ত্রীর পদে রেখে (তা যে মন্ত্রণালয়েই হোক না কেন) সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হতে পারে না। এ কথাটি কেবল বিশ্বব্যাংকের নয়, বাংলাদেশের মানুষেরও। রেলওয়ের অর্থ কেলেঙ্কারির জন্য যদি রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পদত্যাগ করতে পারেন, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী পারবেন না কেন? মহাজোটের শরিক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ নাসিমও বলেছেন, সৈয়দ আবুল হোসেনের সরে দাঁড়ানো উচিত। তাঁরাও কি বিশ্বব্যাংকের দালাল?
তবে এখানে একটি কথা বলা প্রয়োজন, বিশ্বব্যাংকের ঋণ না পেলেও আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। যেসব দেশে বিশ্বব্যাংক ঋণ দেয় না, সেসব দেশ ধ্বংস হয়ে যায়নি; বরং বিশ্বব্যাংকের ঋণ নিয়ে স্বনির্ভর হয়েছে, এ রকম উদাহরণই কম। তারা অনেক সময় এমন সব প্রকল্প চাপিয়ে দেয়, যা মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। তাই বিশ্বব্যাংকের ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করা নিয়ে বিরোধী দলের শোরগোল তোলার যুক্তি আছে বলে মনে করি না। কিন্তু সেই ‘বিতর্কিত’ প্রতিষ্ঠানটি যখন আমাদের সরকারের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কিংবা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনে, তখন লজ্জায় মাথা কাটা যায়।
পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন না করলেও সেতু নির্মাণের কাজ ঠেকে থাকবে না। বাংলাদেশের মানুষের জন্য দরদ উথলে ওঠার জন্য বিশ্বব্যাংক ঋণ দেয় না, তারা ঋণ দেয় ব্যবসা বাড়ানোর জন্য। বিশ্বব্যাংকের ঋণের পেছনে যে বড় রাজনীতি আছে, তাও ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের সরকারগুলো কখনোই মেরুদণ্ড খাড়া করে দাঁড়াতে পারে না, তারা নির্দ্বিধায় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ন্যায্য-অন্যায্য সব শর্তই মেনে নেয়।
সরকারের মন্ত্রীরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার কথা বলছেন। আমরা এ-ও জানি, এই সরকারের অনেক মন্ত্রী-এমপি নিজস্ব অর্থায়নেও এ রকম একাধিক পদ্মা সেতু করতে পারেন। দেশি-বিদেশি ব্যাংকে সেই পরিমাণ অর্থ তাঁদের জমা আছে। কিন্তু তাতে বিশ্বব্যাংক সরকারের গায়ে যে কালিমা লেপন করল, তা মুছে যাবে না। অতএব, বিশ্বব্যাংক নয়, সরকার ও জনগণের স্বার্থেই দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।
২০০৮ সালে বাংলাদেশের মানুষ যে দলটিকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কারণে প্রত্যাখ্যান করেছিল, সেই দলটিই এখন মহাজোট সরকারকে মহাদুর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করছে। সরকারের পদত্যাগ চাইছে। এটি বাংলাদেশের রাজনীতির মস্ত বড় ট্র্যাজিডিও বটে।
প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি করেছেন। দুর্নীতি বলতে তিনি কি ঘুষের টাকার লেনদেন বোঝাচ্ছেন? বিশ্বব্যাংকও বলেনি যে ঘুষের টাকা লেনদেন হয়েছে। তাদের দাবি, ঘুষ চাওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের কোনো ভিত্তিই নেই, তাহলে তিনি সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, তাঁর সচিব ও প্রকল্প পরিচালককে সরালেন কেন? এর মাধ্যমে নিশ্চয়ই তিনি বিশ্বব্যাংক-উত্থাপিত অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো, একজন মন্ত্রীকে স্বপদে (যে মন্ত্রণালয়েই তাঁকে বদলি করা হোক না কেন) বহাল রেখে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করা যায় না।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত খুব কম মন্ত্রী-আমলাই দুর্নীতির দায়ে শাস্তি ভোগ করেছেন। তাই বলে তাঁরা সৎ লোক হয়ে যাননি। সবার সততা আদালতেও প্রমাণিত হতে হয় না। বর্তমান সরকারে এমন মন্ত্রীও আছেন, যাঁর সম্পর্কে চরম শত্রুও দুর্নীতির অভিযোগ আনবেন না। আনলেও মানুষ বিশ্বাস করবে না। কিন্তু তাই বলে প্রধানমন্ত্রী হলফ করে বলতে পারেন না তাঁর মন্ত্রিসভার সবাই সাধু।

২.
২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট যখন বিপুল ভোটে জয়ী হলো, তখন আওয়ামী লীগের সমর্থক তো বটেই, আওয়ামী ঘরানার বাইরেরও অনেক লেখক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ আশান্বিত হয়েছিলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, দেশ এবার জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত হবে। দুর্নীতি একেবারে উচ্ছেদ না হলেও সহনীয় পর্যায়ে আসবে। স্বাধীনতার পর যাঁরা কখনোই আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেননি, তাঁরাও সে সময় আওয়ামী লীগকে মন্দের ভালো বলে মেনে নিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, মহাজোটে বামপন্থীদের অবস্থান যত দুর্বলই হোক, সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে, দেশটি প্রগতির ধারায়ই চলবে। এরপর শেখ হাসিনা যখন পুরোনোদের বাদ দিয়ে নবীনদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করলেন, তখনো তাঁদের মনে এই বিশ্বাস ছিল যে অভিজ্ঞতায় এঁরা কমতি হলেও সততা ও আন্তরিকতায় উতরে যাবেন। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই দেশবাসী হোঁচট খেতে শুরু করে। আওয়ামী লীগ অতি দ্রুত মিত্রদের দূরে ঠেলে দেওয়ার নীতি নেয়। দল ও জোটের মধ্যে যাঁরা এক-আধটু বাম চিন্তা করতেন, তাঁদের নানাভাবে অপদস্থ করতে থাকে। আওয়ামী লীগ-নেতৃত্ব ধরেই নিয়েছেন, যতই গালমন্দ করা হোক না কেন, তাঁদের যাওয়ার জায়গা নেই। কেননা, আওয়ামী লীগের বিকল্প হলো বিএনপি এবং তার ছায়াসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী। প্রগতিশীল চিন্তার কোনো মানুষ তাদের সমর্থন করতে পারে না। গত সাড়ে তিন বছরে দলটি মুখে জনকল্যাণ ও প্রগতিশীলতার বুলি আওড়ালেও কাজে তার প্রমাণ দিতে পারেনি। ক্ষমতায় এসে বিএনপির মতো আওয়ামী লীগও অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রশ্রয় দিয়েছে। এমনকি দুই দলের মধ্যে চরম বৈরিতা সত্ত্বেও দুই দলের সমর্থক অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর আঁতাত লক্ষ করা গেছে। সর্বশেষ পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার নামে তারা এমন এক সোনার পাথরবাটি তৈরি করেছে, যাতে রাষ্ট্রধর্ম ও ধর্মনিরপেক্ষতার সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। তাহলে নূর হোসেন-তাজুলদের রক্তদান কি বৃথা গেল!
২০০৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ দিনবদলের স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় এল, তখন মানুষ আশা করেছিল, এবার আওয়ামী লীগ কিছুটা হলেও বদলাবে। সেই ধারণার অন্যতম কারণ ছিল, নির্বাচনে বিতর্কিত কোনো নেতাকে মনোনয়ন না দেওয়া, বিশেষ করে ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে যাঁরা দলের মুখে চুনকালি মেখে দিয়েছিলেন, সেই হামবড়া নেতাদের মনোনয়ন না দিয়ে শেখ হাসিনা দলের বাইরেও প্রশংসিত হয়েছিলেন। এখন আবার তাঁদের কেউ কেউ নাকি দলীয় নেতৃত্বের আশীর্বাদ পেতে শুরু করেছেন।
বিএনপির আমলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির মহোৎসবের কারণে আওয়ামী ঘরানার বাইরের অনেকেই আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছিলেন এই আশায় যে ধর্মান্ধতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাবে। বাংলা ভাই বা শায়খ আবদুর রহমানের দৌরাত্ম্য কমবে, যুদ্ধাপরাধীদের আস্ফাালন দেখতে হবে না।
ক্ষমতায় থাকতে বিএনপির কতিপয় সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দলটিকে প্রায় একঘরে করে তুলেছিল, বিশেষ করে জঙ্গি উত্থানের ব্যাপারে তারা গ্রহণযোগ্য কোনো যুক্তিই দাঁড় করাতে পারেনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অনেক পশ্চিমা দেশই বিএনপিকে গণতন্ত্রের জন্য ‘বিপজ্জনক’ বলে মনে করত। ‘মধ্য ডান’ বিএনপি থেকে ‘মধ্য বাম’ আওয়ামী লীগই তাদের পছন্দের দল হয়ে উঠেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের অতি আস্থাশীল নেতৃত্ব এবং শেখ হাসিনার ‘পরিচ্ছন্ন মন্ত্রিসভা’ উল্টোরথে চলে। দেশের ভেতরে ও বাইরে যারা তাদের বন্ধু-সুহূদ ছিল, তাদের অনেকেই এখন বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গত সাড়ে তিন বছরে আওয়ামী লীগ একটি কাজই সুচারুভাবে করেছে তা হলো, মিত্র-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীদের খেপিয়ে তোলা এবং বিএনপির ম্রিয়মাণ ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করা। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, আওয়ামী লীগের পৃথিবী ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে।
 সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

 

News From- Prothom Alo

সাগর-রুনি হত্যা, র‍্যাবের আশ্বাস, কিছুই গোপন করা হবে না

Published 06/07/2012 by idealcollect

নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির শিশুপুত্র মাহির সরওয়ার মেঘের খৎনায় র‍্যাবের বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বাহিনীটি বলেছে, শিশুটির মামার বক্তব্য বানোয়াট।

এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে ঘটনার বৃত্তান্ত জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম সোহায়েল শুক্রবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি সবাইকে মামলার শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অনুরোধ করবো। তারপর তদন্তের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী পাওয়া গেছে তা জাতির সামনে তুলে ধরবো। কোনো কিছু গোপন করা হবে না।”

এর আগে মেঘের মামা, নিহত মেহেরুন নাহার রুনির ভাই নওশের রোমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে অভিযোগ করেন, র‍্যাব কর্মকর্তারা তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানি করছে।

হয়রানির উদাহরণ দিতে গিয়ে নওশের বলেন, “মেঘের খৎনা করতেও মানা করেছে র‍্যাব।”

এ বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার তিন মাসেও ঘটনার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় তদন্তকারী বদলে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব।

স¤প্রতি নিহত রুনির পরিবার সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে তদন্তের নামে র‍্যাব তাদেরকে হয়রানি করছে।

অভিযোগের এক পর্যায়ে শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে রুনির ভাই নওশের বলেন, “স্কুলের ছুটিতে মেঘের খৎনা সেরে ফেলতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসপি জাফর উল্লাহ ওপরের নির্দেশের কথা বলে খৎনা না করাতে বলেন। এ বিষয়ে র‍্যাবের মুখপাত্র এম সোহায়েলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনিও খৎনা না করাতে বলেন।”

অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে র‍্যাব কর্মকর্তা কমান্ডার সোহায়েল বলেন, “মুসলমানির বিষয়টি একান্ত তাদের পারিবারিক এবং মামলার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়, ফলে মেঘের মুসলমানি হলো কি হলো না এটা র‍্যাবের বিবেচ্য বিষয় নয় এবং দেখারও নয়।”

তিনি বলেন, মেঘের মুসলমানির বিষয়টি নিয়ে র‍্যাব কখনই কারো সঙ্গে কথা বলেনি কেউ র‍্যাবের সঙ্গেও কথাও বলেনি।

র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, “পুরোটাই মনগড়া বক্তব্য।”

নওশের র‍্যাবের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ এনে বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমার মাকে আগামী সোমবার র‍্যাব সদর দপ্তরে যাওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”

এর আগেও রুনির মা নুরুন্নাহার মির্জাকে র‍্যাব কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল র‍্যাব।

“আমরা র‍্যাবকে অতীতে বহুবার অনুরোধ করেছি যে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হলে বাসায় এসে জিজ্ঞাসাবাদ করুন। আম্মাও সেখানে যেতে চান না”, বলেন নওশের।

“জবাবে র‍্যাব আমাদের জানায়, দরকার হলে আমরা আপনাকে সারাদিন অফিসে বসিয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। কারণ আমরা তা করতে পারি, ” র‍্যাবের বিরুদ্ধে রূঢ় আচরণের অভিযোগ নিহত রুনির ভাইয়ের।

এসব বিষয়ে র‍্যাবের বক্তব্য নিতে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলে র‍্যাব মুখপাত্রকে পাওয়া যায়নি।

নওশেরের অভিযোগ প্রকাশের পর র‍্যাব মুখপাত্র খৎনায় বাধা দেওয়ার খবর অস্বীকার করে মামলা ও তদন্তের বিষয়ে বাহিনীর অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

সোহায়েল আরো বলেন, “সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি মামলা। র‍্যাবের প্রতি আস্থা আছে বলেই হাইকোর্ট এই মামলাটি আমাদেরকে তদন্তের নির্দেশে দিয়েছে, যা র‍্যাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।”

সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “এমন কোনো কাজ করা বা কথা বলা কারো জন্যই ঠিক হবেনা যা মামলার তদন্তে প্রভাব ফেলবে অথবা সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হবে।”

এটিএন বাংলার মেহেরুন রুনি এবং তার স্বামী মাছরাঙা টেলিভিশনের সাগর সরওয়ার ১১ ফেব্রুয়ারি নিজেদের শয়নকক্ষে খুন হন।

এখনও এই ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহত দম্পতির সহকর্মী সাংবাদিক সমাজ রাজপথে আন্দোলন করছে।

News From-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম