রুয়েট উপাচার্যের কার্যালয় ভাংচুরে সরকার সমর্থকরা

Published 05/07/2012 by idealcollect

Imageরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জুলাই ০৫- রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্যের কার্যালয়ে ভাংচুর চালিয়েছে সরকারি দল এবং এর সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। 

বৃহস্পতিবার বেলা দুপুর ১২টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক সিরাজুল করিম চৌধুরীর কক্ষে এ ভাংচুর চালানো হয়। তবে তখন উপাচার্য কক্ষে ছিলেন না।

ছাত্রলীগ নেতাদের অভিযোগ, উপাচার্য ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির তোষণ করছেন। তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন অধ্যাপক সিরাজুল করিম।

মতিহার থানার ওসি আনিছুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভাংচুরের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তবে আমরা পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা স্থান ত্যাগ করে।”

কারা এই হামলা চালিয়েছে, তার তদন্ত চলছে বলে তিনি জানান। তবে বিকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর সাধারণ সম্পাদক ডব্লিউ সরকার, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল বারী টিটু, ৩০ ওয়ার্ডের সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ প্রায় একশ নেতা-কর্মীকে সেখানে দেখা গেছে।

রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ডব্লিউ সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও গত মঙ্গলবার সাবেক মেয়রের নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদল ক্যাম্পাসে ফল উৎসব আয়োজন করে। এতে উপাচার্য কোনো বাধা দেননি।

এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে বুধবার সরকার সমর্থকরা উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও তার দেখা পায়নি। এরপর বৃহস্পতিবার আবার তারা যান।

ডব্লিও সরকার বলেন, “আজ তাকে না পেয়ে ফোন করলে তিনি পরে আসতে বলেন। তখন কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে সামান্য ভাংচুর করে।”

এবিষয়ে জানতে চাইল রুয়েট ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এতে রুয়েটের কোনো শিক্ষার্থী জড়িত নয়।

তবে তিনি একইসঙ্গে বলেন, “ছাত্রলীগ কোনো কর্মসূচি পালন করতে চাইলে উপাচার্য অনুমতি দিতে গড়িমসি করেন। অথচ ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠন ক্যাম্পাসে তাদের কর্মসূচি নির্বিঘেœ পালন করতে পারে।”

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য সিরাজুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ক্যাম্পাসে বিএনপি-জামায়াতকে কর্মসূচির পালনের অনুমতি আমি দিইনি। বিএনপি-জামায়াত তোষণের অভিযোগ মনগড়া ও ভিত্তিহীন।”

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তিনি ব্যক্তিগত কাজে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তার গ্রামের বাড়ি যান। সেখান থেকে বিকাল ৩টায় ফেরেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, “অফিস সহকারীর টেলিফোন পেয়ে জানতে পারি যে আমার কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে কয়েকজন দুর্বৃত্ত।”

এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ লাখ টাকা বলে ধারণা করছেন তিনি।

এদিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে ভাংচুরের প্রতিবাদে বিকালে রুয়েট সংলগ্ন তালাইমারী মোড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করেছে।

News From-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: