জেরার ধরনে আপত্তি জানালেন মুনতাসির মামুন

Published 05/07/2012 by idealcollect

ঢাকা- মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলার প্রথম সাক্ষী মুনতাসির মামুন তার জবানবন্দিকালে বলেছেন, আমি তো চোর ডাকাতের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে আসিনি।

আমি কোথায় থেকেছি, আমার বাড়ি কোথায়, এসব প্রশ্নে তিনি ট্রাইব্যুনালে আপত্তি তোলেন।

বুধবার গোলাম আযমের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী মুনতাসির মামুন আসামী পক্ষের আইনজীবীদের জেরার এক পর্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি আদালতের কাছে হাত জোর করে ক্ষমা চাচ্ছি। আমিতো কোন চোর ডাকাতের মামলার সাক্ষ্য দিতে আসিনি। আমার জবানবন্দির বাইরে যেয়ে আমাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে। এটা হতে পারে না।

কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির আহবায় খাজা খয়ের উদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্নের এক পর্যায় সাক্ষী আপত্তি জানিয়ে এসব কথা বলেন। এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়।

পরে ট্রাইব্যুনালের সাথে আসামীপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়। এরপর জেরার কার্যক্রম আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

এর আগে সকাল থেকে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে ২ সদস্যের ট্রাইব্যুনালে তৃতীয় দিনের মতো আসামীপক্ষ মুনতাসির মামুনকে জেরা শুরু করেন।

আসামীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম সাক্ষী মুনতাসির মামুনকে জেরা করছেন। এ সময় চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুসহ অন্যান্য প্রসিকিউটরগণ উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে ২ সদস্যের ট্রাইব্যুনালে তৃতীয় দিনের মতো মুনতাসির মামুনকে জেরা করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল জেরার কার্যক্রম আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করে।

জেরার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন-পাকিস্তান সেনারা দেখলেই বলতো ডান্ডি কার্ড (আইডি কার্ড) দেখাও।

উত্তর-জ্বি।

প্রশ্ন-আপনি ধানমন্ডি থাকতে একটি ডান্ডি কার্ড সংগ্রহ করেছিলেন।

উত্তর-না। সত্য নয়।

প্রশ্ন- টেকনিশিয়ান হিসেবে ডান্ডি কার্ড সংগ্রহ করেছিলেন।

উত্তর-সত্য নয়।

প্রশ্ন-আপনি জবানবন্দীতে বলেছেন, ধানমন্ডিতে থাকতেন।

ধানমন্ডির কোথায় থাকতেন?

উত্তর-১৮ নম্বর রোডে।

প্রশ্ন-আপনি যে চাচার সঙ্গে থাকতেন তিনি কি বেঁচে আছেন?

উত্তর-হ্যা।

প্রশ্ন-তার নাম কি বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর? তিনি কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন?

উত্তর-জ্বি।

প্রশ্ন-ওই চাচার আপনার সমবয়সী কোনো পুত্র সন্তান ছিল কিনা?

উত্তর-না।

প্রশ্ন- আপনি ধানমন্ডির যেখানে থাকতেন, সেখান থেকে ওই এলাকার রাজাকার ক্যাম্পের দুরত্ব কেমন ছিল?

উত্তর- জানি না।

প্রশ্ন-সে সময় ধানমন্ডি এলাকায় কারো সঙ্গে আপনার পরিচয় ছিল?

উত্তর-দু’ একজনের সঙ্গে।

প্রশ্ন-একাত্তর সালে ঐ এলাকায় হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ হয়েছিল, আপনি তা দেখেছিলেন কিনা?

উত্তর-হয়েছে কিনা তা বলতে পারবো না। কারণ সব সময় আমি বাসার ভেতরে থাকতাম।

প্রশ্ন-ঐ সময় ধানমন্ডি এলাকায় নিহত হয়েছেন এমন এক জনের নাম বলতে পারবেন?

উত্তর- আমার স্মরনে নেই।

প্রশ্ন-ঐ এলাকায় অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে এমন একটি বাড়ির ঠিকানা বলতে পারবেন?

উত্তর-বলতে পারবো না।

প্রশ্ন-ঐ এলাকায় হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট হয়েছে, এমন কোনো বাড়ির কথা নির্দিষ্ট করে বলতে পারবেন?

উত্তর-আমি সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারবো না।

প্রশ্ন- একাত্তর সালে কোন্‌ মাস পর্যন্ত ধানমন্ডিতে ছিলেন?

উত্তর-খুব সম্ভবত অক্টোবর পর্যন্ত।

প্রশ্ন-অক্টোবরের পর আপনি কোথায় যান?

উত্তর-আমি চট্টগ্রামে যাই।

প্রশ্ন-তখন আপনার বাবা কোথায় চাকরি করতেন?

উত্তর-চট্টগ্রাম বন্দরে।

প্রশ্ন-বন্দরের কোন‌ বিভাগে?

উত্তর প্রশাসনিক বিভাগে।

প্রশ্ন-বন্দরের প্রশাসন বিভাগ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রনে ছিল?

উত্তর-আমার জানা নেই। তবে বন্দরের প্রধান ছিলেন সেনাবাহিনীর কেউ একজন।

প্রশ্ন-আপনি চট্টগ্রামে যে এলাকায় ছিলেন সেখানে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান কে ছিলেন?

উত্তর বলতে পারবো না।

প্রশ্ন-ওই এলাকায় আলবদর, রাজাকার, আল শামস‌ বাহিনীর কমান্ডার কে ছিলেন?

উত্তর-বলতে পারবো না।

প্রশ্ন-ঢাকার মিরপুরে আপনার চাচার বাসায় অবাঙ্গালীরা লুটপাট করেছিল কিনা?

উত্তর-করেছিল।

প্রশ্ন- যারা লুটপাট করেছিল, তাদের সনাক্ত করেছিলেন কিনা?

উত্তর-কাউকে নামে সনাক্ত করা হয়নি।

প্রশ্ন-মিরপুরে চাচার সঙ্গে যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তার নাম বলতে পারবেন?

উত্তর-না। আপনার লেখা ‘শান্তি কমিটি ৭১’ বইয়ে পিরোজপুরের শান্তি কমিটির নাম দিয়েছেন, তা কোথা থেকে পেয়েছেন?

একইভাবে চাপাইনবাবগঞ্জ শান্তি কমিটির তথ্য কোথা থেকে পেয়েছে?

উত্তর-বইয়ে তথ্য সূত্র দেওয়া আছে। এসময় মুসতাসীর মামুন রেগে যান। তিনি বলেন, আমি যে টুকু সাক্ষ্য দিয়েছি সেটুকুরই জেরা হবে। এভাবে সপ্তাহের পর সপ্তাহ জেরা হতে পারে না।

প্রশ্ন-কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির কোনো সদস্য সুনির্দিষ্টভাবে কোনো এলাকায় হত্যা, লুন্ঠন, ধর্ষণ, লুটপাটের নির্দেশ বা পরামর্শ দিয়েছে, তার কোনো প্রমাণ আপনার কাছে আছে?

উত্তর-কাগজ না দেখে বলতে পারবো না। তবে যতটুকু মনে পড়ে, বইয়ে এবিষয়ে তথ্য দেওয়া আছে।

প্রশ্ন- কোনো এলাকায় কোনো ব্যক্তি বা সাধারণ মানুষকে ইসলাম ধর্ম গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছে এমন কোনো তথ্য আপনার কাছে আছে?

উত্তর-এরকম তথ্য আমরা পেয়েছি। তবে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে কাগজ দেখতে হবে।

এক পর্যায়ে শান্তি কমিটির প্রধান খাজা খয়েরউদ্দিনকে নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করেন গোলাম আযমের আইনজীবী। দু’তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন মুনতাসীর মামুন।

এরই এক পর্যায়ে মুনতাসীর মামুন জেরার ধরন দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি চোর ডাকাতের মামলায় সাক্ষ্য দিতে আসিনি। আমি কোথায় থেকেছি কোথায় বাড়ি এসব প্রশ্ন কেন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি আদালতের কাছে হাত জোর করে ক্ষমা চাচ্ছি। আমিতো কোন চোর ডাকাতের মামলার সাক্ষ্য দিতে আসিনি। আমার জবানবন্দির বাইরে যেয়ে আমাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে। এটা হতে পারে না।

এসময় প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম দাঁড়িয়ে বলেন, এ মামলা গোলাম আযমের বিরুদ্ধে। এখানে খাজা খয়ের উদ্দিনকে নিয়ে এত প্রশ্ন করার সুযোগ নেই।

এরপর ট্রাইব্যুনাল আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলামকে বলেন, খাজা খয়ের উদ্দিন নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। শান্তি কমিটি নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন।

এরপর আর একটি প্রশ্ন করে ওই দিনের জেরার কার্যক্রম মুলতবি করে ট্রাইব্যুনাল। গত ১১ জানুয়ারি গোলাম আযম ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানান। এ আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে তদন্ত কাজ শেষ করেন তদন্তকারী কর্মকতারা। পরে তদন্ত কর্মকর্তারা প্রসিকিউশনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে মোট ৩৬০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের পাশাপাশি ১০ হাজার পৃষ্ঠার নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে গত ১ জুলাই ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি পেশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক ও ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুন (৬১)।

গত ১১ জানুয়ারি গোলাম আযম ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানান। এ আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে তদন্ত কাজ শেষ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পরে তদন্ত কর্মকর্তারা প্রসিকিউশনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে মোট ৩৬০ পৃষ্ঠার তদন্ত  প্রতিবেদনের পাশাপাশি ১০ হাজার পৃষ্ঠার নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়।

From-রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s

%d bloggers like this: