পদ্মা সেতু দুর্নীতি প্রসঙ্গে সংসদে শেখ হাসিনা, বিশ্বব্যাংক যেখানে একটি পয়সাও দেয়নি সেখানে দুর্নীতি হয় কিভাবে

Published 06/07/2012 by idealcollect

দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি বাতিল করায় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি প্রকারান্তরে বিশ্ব ব্যাংককেই দুর্নীতিবাজ হিসেবে  আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক যেখানে একটি পয়সাও দেয়নি সেখানে তারা দুর্নীতির  কথা  কোথা থেকে  আনে। তাদের ভেতরের দুর্নীতি কে দেখে। ওয়াল স্টীট জার্নাল ও ফোবস এর  দু‘টি রিপোর্ট দেখলেই  তা বেরিয়ে আসবে। পদ্মা সেতুর ঋণ চুক্তি বাতিলের পেছনে কারা  আছে আর কী উদ্দেশ্য রয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করা হবে, কোন মন্ত্রী দুর্নীতি করলে তাকে চলে যেতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র  সংসদ সদস্য ফজলুল আজিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দু‘বোন আর আমাদের ৫ ছেলে মেয়ে। তার বাইরে আমার কোন পরিবার নেই। আমরা কমিশন খাই না। জনগণের সেবা করার জন্য ক্ষমতায় এসেছি, দু’পয়সা কামাতে আসিনি। কেউ আমার পরিবারের কথা বলে কমিশন  চাইলে সরাসরি আমাকে জানাবেন। এ সময় তিনি তার ব্যক্তিগত ইমেইল sheikhhasina@hotmail.com এবং দু‘টি মোবাইল নাম্বার ০১৮১২৬৩১৯১৭১ ও ০১৭১১৫২০০০০  প্রকাশ করে তাতে অভিযোগ করার জন্য আহবান জানান।

 

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা ব্রিজে একটি টাকা ছাড় দেয়নি। কিভাবে দুর্নীতি হয়। একটি বিশেষ পরামর্শক কোম্পানিকে কাজ দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংক বারবার চিঠি দিয়েছে, চাপ দিয়েছে। পরে দেখেছে ঐ প্রতিষ্ঠান একটি ভুয়া। ব্রিজ করার জন্য আমাদের করা কমিটি তাদের চিঠির প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। পরে তারাও জেনেছে ঐ পরামর্শক কোম্পানিটি ভুয়া।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু  নিয়ে আমি আরো বিস্তারিত বক্তব্য দিব, আট তারিখে সমাপনী ভাষণে। ইনশাআল্লাহ আমরা এ সেতু করবো। আমরা গরিব হতে পারি, তবে কাজ বন্ধ থাকবে না। কাজ করব। মালয়েশিয়া আমাদের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্য দেশের প্রস্তাবও আমরা নেব। প্রয়োজনে পিপিপি পদ্ধতিতে কাজ করা হবে। আমরা যদি বিশ্বমন্দার মধ্য দিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা ধরে রাখতে পারি তবে পদ্মা ব্রিজও করতে পারবো। গতকাল (মঙ্গলবার) আমরা আমাদের সেতু বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, কিভাবে নিজস্ব অর্থায়নে কাজটি শুরু করা যায়।

 

তিনি আরো বলেন, যারা আমার দেশকে, দেশের মানুষকে অপমাণ করেছে, তারা এ পর্যন্ত একটি প্রমাণ দিতে পারেনি, আমি দেশবাসীকে বলতে চাই আমার পরিবার বলতে বোঝায় আমি আমার বোন ও পাঁচটি সন্তান। আমার পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যদি কিছু চায় তবে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাবেন। আমরা কমিশন খাওয়া পরিবার নই।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কি সারাজীবন অন্যের সাহায্য চেয়ে আসবে? বাংলাদেশ কি নিজের পায়ে দাঁড়াবে না? মাননীয় সংসদ সদস্যদের মাথায় সব সময়ই সাহায্যের কথা আসে। ভিক্ষা করে চলতে হয়।

 

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির আমলে দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক জ্বালানি, বিদ্যুৎ খাতে সহায়তা বন্ধ করে রেখেছে। যোগাযোগের সাতটি প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। এর কারণে ঢাকা ময়মনসিংহ হাইওয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এসে নিজেদের অর্থায়নে কাজ শুরু করি। তাদের জন্য বসে থেকে লাভ নেই।

 

তিনি বলেন, আমাদের ১৯৯৬-২০০১ ক্ষমতাকালে আমরা পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করতে চেয়েছি। কিন্তু বিএনপি এসে তা বন্ধ করে দেয়। আমরা এবার এসে আবার শুরু করলে বিশ্বব্যাংক নিজ থেকেই অর্থ দিতে চাইল। কনসোর্টিয়াম হলো। হঠাৎ করে তারা বলল, এখানে দুর্নীতি হয়েছে। তাই তারা অর্থ বন্ধ করে দিয়েছে, যেখানে একটি টাকা তারা ছাড় দেয়নি, সেখানে দুর্নীতি কিভাবে হয়? আমরা নিজেদের অর্থ দিয়ে এ সেতুর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ শুরু করি। এ খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেখানে হয়নি।

 

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইসাবেলা এদেশে আসলো এবং আমাকে দুটি চিঠি দিলো দুর্নীতি হয়েছে বলে, আমি তাকে বললাম এটা আমার সরকারের নয়, বিএনপি সরকারের। আর যে যোগাযোগ মন্ত্রীর নাম ছিল সে চিঠি আমার নয়। বিএনপি সরকারের।

 

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের স্বচ্ছ তদন্তের জন্য আমি মন্ত্রণালয় থেকে যোগাযোগমন্ত্রীকে ও সচিবকে সরিয়ে দেই। কিন্তু যোগাযোগ খাতে বিশ্বব্যাংক সাতটি প্রকল্পের অর্থ প্রত্যাহার করে নিলেও বিএনপি তাদের মন্ত্রীকে সরায়নি। কিন্তু আমরা সরিয়েছি। পদ্মা ব্রিজের বিশ্বব্যাংক অর্থ বন্ধ করেছে। ঠিক আছে তারা এটা করতে পারে। অন্যরা তা করতে পারে। কিন্তু পদ্মা ব্রিজ করার জন্য আমার ষোল কোটি লোক আছে। ৮০ লাখ লোক দেশের বাইরে থাকে। আমরা এ ব্রিজ করব।

 

বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কোন প্রস্তাবে আমরা পদ্মা সেতু করবো না। পিপিপির মাধ্যমেও পদ্মা সেতু হতে পারে।

 

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা এতো খারাপ না যে, অন্যের সহযোগিতা না পেলে চলতে পারবো না। পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়ে আমাদের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কিভাবে আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারি সে কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছি।  দেশবাসীকে বলে রাখছি- পদ্মা সেতু আমরা নির্মাণ করবোই। সে সামর্থ আমাদের আছে।

 

মন্ত্রীদের দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, যে মুহূর্তে কোন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হবে সেই মুহূর্তেই তার মন্ত্রীত্ব চলে যাবে। কারণ, আমাদের মন্ত্রী হওয়ার মতো যোগ্য এমপির অভাব নাই। আওয়ামী লীগের ২৩০ জন এমপি রয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন মাত্র মন্ত্রী। অন্য এমপিদের অনেকেই মন্ত্রী হতে চায়। তাদের যোগ্যতারও অভাব নেই। সুতরাং দুর্নীতিবাজ কাউকে মন্ত্রী হিসেবে রাখার প্রয়োজনও নেই।

 

নাছিমুল আলম চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বের দ্রুত বেড়ে ওঠা মেগাসিটিগুলোর অন্যতম রাজধানী ঢাকার লোকসংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি যা দেশের মোট জনসংখ্যার ১০% এর বেশি। আর দ্রুত নগরায়নের ফলে গত কয়েক দশকে যানবাহনের চাহিদাও কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু বিগত সরকারগুলোর আমলে রাস্তাঘাটের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে সমস্যা আরো প্রকট হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যান্য রাজধানীগুলোর ন্যায় ঢাকাতেও জনসংখ্যার চাপ কমানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, ঢাকামুখী জনস্রোত রোধ করার জন্য পৃথক কোন পরিকল্পনা কমিশন গ্রহণ না করলেও সরকারের গৃহীত ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১১-১৫) নগারায়ন সমস্যাকে প্রাধান্য দিয়ে ১০টি খাতের মধ্যে একটি হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছে এবং দলিলটিতে নগরায়নকে বাস্তবমুখী ও নাগরিক সুবিধা সম্বলিত করার জন্য প্রয়োজনীয় লক্ষ্য নির্ধারন ও দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকামুখী জনস্রোতের প্রধান কারণ হিসেবে অন্যান্য বিভাগীয় শহরে দুর্বল নাগরিক সুবিধা ও নাগরিক সেবার অভাব এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের অভাবকে সনাক্ত করা হয়েছে। এ সময় তিনি এসব উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য সরকারের গৃহীত ১৭টি পদক্ষেপ সম্পর্কে সংসদকে অবহিত করে বলেন, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকামুখী জনস্রোত কমবে। তানভীর শাকিল জয়ের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকার চারপাশে চারটি নদীতে জলপথ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছি। ঢাকা শহরের মানুষ যাতে অল্প খরচে যাতায়াত করতে পারে সেজন্য মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি। খুব শিগগিরই মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

 

কেএম খালিদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৬১ সালে ধানমন্ডির মানুষ বলতো ঢাকায় যাচ্ছি। তখন ধানমন্ডি ঢাকার অংশ ছিল না। বর্তমানে নতুন ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তবে ঢাকার চারদিকে চারটি স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। দেশের ৭টি বিভাগে ৭টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া প্রতিটি জেলার শিল্পনগরীগুলোকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। আর এসব কাজে সফল হলে মানুষের রাজধানীমুখী হওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। আমরা প্রত্যেকটি উপজেলাকে মডেল টাউন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছি। একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে।

 

ডা. মো. সিরাজুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় গিয়ে ঢাকার উপর জনচাপ কমানোর জন্য ঘরে ফেরা কর্মসূচি নিয়েছিলাম। ওই কর্মসূচির মাধ্যমে ২৮ হাজার বস্তিবাসী গ্রামে ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় গিয়ে ওই কর্মসূচি বাতিল করেছিল।

 

অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার বিষয়ে মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জনগণের সামনে রূপকল্প-২০২১ উপস্থাপন করেছি। এই রূপকল্পের আলোকে আমরা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২১) এবং ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-১৫) প্রণয়ন করেছি। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সর্বশেষ বছরে ২০১৫ সালে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত হবে। এ দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাই।

 

মো. শফিকুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম মৎস্য ভান্ডার চলনবিল রাজশাহী বিভাগের ৬টি জেলায় বিস্তৃত। উক্ত জলাভূমি এলাকা দেশীয় নানা প্রজাতির মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এক সময় পরিচিত ছিল। ক্রমশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ বিল থেকে মৎস্য উৎপাদন ও আশপাশের জলাশয়গুলোর জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল এবং এ বিলের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটেছিল। চলবিলকে পুনরায় তার আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় শুধুমাত্র এ বিলের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মহাজোট সরকারের আমলে বিভিন্ন পেশার শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণের পদক্ষেপ সম্পর্কিত ফরিদুন্নাহার লাইলীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের ৩৪টি পদক্ষেপ সম্পর্কে সংসদকে অবহিত করেন। মুহিবুর রহমান মানিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বিকাশের যুগে দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় এবং দেশে অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ তৈরি ও মানবিক গুণাবলীর উৎকর্ষ সাধনে এদেশের মানুষের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ আরো দৃঢ়করণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

 

About these ads

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

%d bloggers like this: