‘আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির দিকে তাকিয়ে আছি’

Published 07/07/2012 by idealcollect

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে: দুই বছর আগে ভারত সরকার বাংলাদেশকে যে একশ’ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার বেশির ভাগ ব্যবহারে ভারতের সঙ্গে ইতিমধ্যেই চুক্তি হয়ে গেছে। ২শ’ মিলিয়ন ডলার ব্যবহার নিয়ে এখনও কিছু ঠিক করা হয়নি। শুক্রবার কলকাতায় এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০১০ সালে ভারত বাংলাদেশকে একশ’ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। পরে এ বছরের মে মাসে ভারতের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় ঢাকা সফরে এসে বাংলাদেশের মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে জানান, একশ’ কোটি ডলারের মধ্যে ২শ’ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশকে অনুদান হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। এ অর্থ পরিশোধ যেমন করতে হবে না, তেমনি কোন সুদও দিতে হবে না। এই অর্থ বাংলাদেশ নিজের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ব্যয় করতে পারবে। বাকি ৮০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষেত্রে সুদ ১.৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে এক শতাংশ করার কথাও প্রণব বাবু ঘোষণা করেন। কিন্তু সেই ৮০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ ব্যবহারে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে অর্থমন্ত্রী মুহিত এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এই ধরনের ঋণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক নিয়ম মানতে হয়। আর সেসব মেনে চলতে গিয়ে অনেকটাই সময় লাগে। যেমন রেলের ইঞ্জিন বানানোর জন্য তিন চার বছর লেগে যাওয়া অস্বাভাবিক নয় বলে তিনি জানান। ভারতীয় ঋণের একটি অংশ দিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারত থেকে ইঞ্জিন কেনা হবে বলে জানা গেছে। তিস্তার পানি নিয়ে বাংলাদেশে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখনও কি বাংলাদেশ তিস্তার পানি পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী, এই প্রশ্নের উত্তরে মুহিত বলেন, আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির দিকে তাকিয়ে রয়েছি। তবে তিস্তার পানি নিয়ে চুক্তি হবেই বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান।  তিন দিনের ভারত সফরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার দেখা করার কোন কর্মসূচি ছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোন বিষয় আমার সফরসূচিতে নেই। তিন দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী মুহিত গত বুধবার কলকাতা এসেছেন। তার সঙ্গে এসেছেন তার পুত্র ও পুত্রবধূ এবং ১৫ সদস্যের এক সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল। কলকাতা থাকাকালীন তিন দিনই তিনি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের ৯০ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত তিনটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনটি অনুষ্ঠানের দু’টি কলকাতায় অনুষ্ঠিত হলেও তৃতীয়টি অনুষ্ঠিত হয়েছে কবির জন্মস্থান বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরে। মুহিত জানান, গত সাড়ে তিন-চার বছর এ ধরনের কোন সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সময় পাননি তিনি। এই প্রথম তিনি এই ধরনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছেন। একই সঙ্গে অবসর কাটানোও যে তার এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল সেকথাও তিনি জানিয়েছেন। তবে এ সফরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক মিত্রের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছিলেন।  আজ (শনিবার) সকালেই তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন। 

News From- Manob Zamin

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s

%d bloggers like this: