দুই নেত্রীকে আলোচনায় বসতে ব্যারিস্টার রফিক উল হকের আহ্বান

Published 07/07/2012 by idealcollect

প্রবীণ আইনবিদ ব্যারিস্টার রফিক-উল হক দেশের স্বার্থে দুই নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে আপনারা দুইজন মিলেমিশে কাজ করুন। রাষ্ট্র কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে দু’জনে আলোচনায় বসুন। দেশে আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য কাজ করুন। তা হলে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র আসবে। এ জন্য একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি থাকতে হবে। আপনারা একে অপরকে টিটকেরি করবেন তা আমরা আশা করি না। এখানে ব্যক্তির চেয়ে পার্টি এবং পার্টির চেয়ে গণতন্ত্র বড়।
সুপ্রিম কোর্টে এই বিশিষ্ট আইনজ্ঞ আরো বলেন, আমাকে দেখে সবাই দুই নেত্রীকে একত্র করার কথা বলেন। বলা হয় রফিক-উল হক ইচ্ছে করলে দুই নেত্রীকে একত্রে বসাতে পারেন। আমার কথা হলো, দুই নেত্রীই দেশকে ভালবাসেন। দু’জনকেই আমি ভালোভাবে চিনি। একজন বঙ্গবন্ধু কন্যা তার কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু আশা করি এবং অপরজন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রীÑ দু’জনই দেশকে ভালোবাসেন। তাদের মিলিয়ে দেয়া মানে তাদের রাজনৈতিক দর্শন পরিবর্তন হবে না। তারা আলোচনা করবেন, নিজ রাজনৈতিক স্বার্থ থাকবে, তবে আলোচনা করে তারা জাতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। একে অপরের সাথে কথা বলবেন, ফোন করবেন। জাতীয় বিষয়ে কথা বলবেন। আমরা চেষ্টা করলে দুই নেত্রীকে একত্র করা যাবে। আপনাদের পার্টি ঠিক থাকুক, আপনারা দেশের স্বার্থে কাজ করুনÑ এটাই আমরা চাই।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক কালচার সৃষ্টি করতে পারলে সত্যিকার অর্থে আমাদের জয় হবে। গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত মেনে নেয়া। আগামী নির্বাচনে বেগম জিয়া যদি জয়ী হন আমি আশা করব শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে গিয়ে তাকে সংবর্ধনা জানাবেন। অনুরূপভাবে শেখ হাসিনা জয়ী হলেও তাকে বেগম জিয়া অভিনন্দন জনাবেন। এটা আমরা চাই। এটা যদি প্রতিষ্ঠিত হয়, বাংলাদেশের মানুষ অনেক বেশি সুখে থাকবে।
গতকাল সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে সার্ক কালচারাল সোসাইটি আয়োজিত চতুর্থ জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসব উদ্বোধন করে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক এ কথা বলেন। সংগঠনের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। বক্তব্য রাখেন দৈনিক ভোরের ডাকের সম্পাদক কে এম বেলায়েত হোসেন, কৃষক পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুর রহমান টেপা প্রমুখ।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, দুঃখের বিষয় আমরা সবাই সার্কের মেম্বার। সার্ক সার্ক বলছি, অথচ ভিসা ছাড়া আমরা এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে পারছি না। ১৫ দিন বা এক মাসের জন্য অবাধে যাতায়াতের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আজকের তরুণ প্রজন্ম জানেই না সার্ক এসেছে বাংলাদেশ থেকে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাথা থেকেই এই চিন্তা এসেছে।
শাজাহান খান বলেন, ইউরোপের ২৬ দেশে এক ভিসায় প্রবেশ করা যায়। সার্ক দেশগুলোতে এটি কেন হচ্ছে নাÑ এটা করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনো সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সম্পর্কের সমন্বয় হয়নি। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়কের সময় দুই নেত্রীকে মাইনাস করার কথা বলা হয়েছিল। আল্লাহ ছাড়া কেউ কাউকে মাইনাস করতে পারে না। তিনি বলেন, এরশাদকে আমরা প্রধান দুই দল মাইনাস করতে চেয়েছিলাম। তাকে স্বৈরাচার বলছি, আর এখন সরকার তাকে নিয়ে জোট করেছে। মন্ত্রী আরো বলেন, এখন অনেকে বলে তৃতীয় শক্তি ক্ষমতা দখল করবে। এটা হলে ওয়ান-ইলেভেনের সময় মঈন ইউ আহমেদ ক্ষমতা দখল করতে পারতেন। বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন, এখন তৃতীয় শক্তির ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়।

News From- Naya Diganta

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s

%d bloggers like this: